ডাক বিভাগের সেবা
চিঠি-পার্সেল পাঠানো, টাকা পাঠানো, সঞ্চয় আর বীমা — শেরপুর প্রধান ডাকঘর এর কাউন্টারে যে সেবাগুলো পাওয়া যায়।
সাধারণ ডাক
Ordinary Mail
চিঠি, পোস্টকার্ড আর ছাপানো কাগজ সাধারণ ডাকে দেশে ও বিদেশে পাঠানো।
- খামে ঠিকানা লিখে ডাক টিকিট লাগিয়ে ডাকবাক্সে ফেললেই হয়।
- ওজন আর দূরত্ব অনুযায়ী টিকিটের মূল্য আলাদা।
- সাধারণ ডাকে ট্র্যাকিং নম্বর থাকে না — জরুরি কাগজ রেজিস্ট্রি করে পাঠানোই ভালো।
রেজিস্ট্রি ডাক
Registered Post
গুরুত্বপূর্ণ কাগজ রেজিস্ট্রি করে পাঠানো — রসিদ থাকে, তাই খোঁজ রাখা যায়।
- কাউন্টারে জমা দিলে রসিদ ও ট্র্যাকিং নম্বর দেওয়া হয়।
- প্রাপ্তি স্বীকার (এ.ডি.) চাইলে প্রাপকের সই করা কার্ড ফেরত আসে।
- দরখাস্ত, চুক্তিপত্র বা আদালতের নোটিশের মতো কাগজে এটিই নিয়ম।
জিইপি — গ্যারান্টেড এক্সপ্রেস পোস্ট
GEP
দেশের ভেতরে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিলির নিশ্চয়তা দেওয়া দ্রুত ডাক সেবা।
- সরকারি দপ্তরের কাগজপত্র — যেমন জমির খতিয়ান বা পর্চা — এই সেবাতেই ঠিকানায় পৌঁছায়।
- প্রতিটি খামে বারকোড থাকে, নম্বর দিয়ে কোথায় আছে দেখা যায়।
- বড় শহরে সাধারণত পরের কর্মদিবসেই বিলি হয়।
ই.এম.এস. — আন্তর্জাতিক দ্রুত ডাক
EMS
বিদেশে চিঠি, কাগজপত্র আর ছোট পার্সেল দ্রুত পাঠানোর সেবা।
- আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে বিদেশেও খোঁজ রাখা যায়।
- কোন দেশে কী পাঠানো যাবে আর কী যাবে না — তালিকা কাউন্টারে দেখে নিন।
- সাথে বিষয়বস্তুর ঘোষণা (কাস্টমস ফরম) পূরণ করতে হয়।
পার্সেল ও ভিপি সেবা
Parcel / Value Payable
জিনিসপত্র ডাকযোগে পাঠানো — চাইলে প্রাপকের কাছ থেকে দাম আদায় করেও।
- দেশের ভেতরে ও বাইরে দুই ধরনের পার্সেলই নেওয়া হয়।
- ভিপি পার্সেলে প্রাপক টাকা দিয়ে পার্সেল নেন, টাকা প্রেরকের কাছে পৌঁছে যায়।
- ওজন ও আকারের সীমা আছে — বড় প্যাকেট হলে আগে জেনে নিন।
বিমাকৃত ডাক
Insured Post
মূল্যবান কাগজ বা জিনিস ঘোষিত মূল্যে বিমা করে পাঠানোর ব্যবস্থা।
- হারিয়ে বা নষ্ট হলে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
- ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী বিমার মাশুল যোগ হয়।
- সনদ, দলিলের নকল বা গয়নার মতো জিনিসে এটিই নিরাপদ পথ।
ই-কমার্স পণ্য বিলি
e-Commerce Delivery
অনলাইন দোকানের পণ্য গ্রাহকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া, দরকার হলে টাকা আদায় করে।
- ডাকঘরের নেটওয়ার্ক দেশের প্রায় সব ইউনিয়নে আছে — কুরিয়ার যায় না এমন জায়গাতেও পৌঁছায়।
- ক্যাশ-অন-ডেলিভারিতে আদায় করা টাকা বিক্রেতার হিসাবে জমা হয়।
- নিয়মিত পাঠাতে চাইলে অফিসে কথা বলে চুক্তি করে নিতে হয়।
মানি অর্ডার
Money Order
ফরম পূরণ করে এক ডাকঘর থেকে আরেক ডাকঘরে টাকা পাঠানোর পুরনো ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা।
- প্রাপক নিজের ডাকঘর থেকে পরিচয়পত্র দেখিয়ে টাকা তোলেন।
- ব্যাংক হিসাব না থাকলেও চলে।
- রসিদটি রেখে দিন — টাকা পৌঁছেছে কি না জানতে ওই নম্বরই লাগে।
মোবাইলে টাকা লেনদেন (নগদ)
Digital Financial Service
ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা — মোবাইল থেকেই টাকা পাঠানো ও তোলা।
- আগের ই.এম.টি.এস. সেবাটির জায়গায় এখন এই ব্যবস্থাই চলে।
- হিসাব খোলা, টাকা জমা বা তোলার কাজ ডাকঘরের কাউন্টার থেকেও করা যায়।
- জাতীয় পরিচয়পত্র আর নিজের নামের সিম সাথে রাখুন।
ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক
Post Office Savings Bank
ডাকঘরেই সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাব খুলে টাকা জমা রাখার সরকারি ব্যবস্থা।
- সরকারি নিশ্চয়তা থাকে, তাই গ্রামের গ্রাহকের কাছে ভরসার জায়গা।
- হিসাব খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি আর নমিনির তথ্য লাগে।
- মুনাফার হার সরকার নির্ধারণ করে — কাউন্টারে চলতি হারটি জেনে নিন।
ডাক জীবন বীমা
Postal Life Insurance
কম প্রিমিয়ামে সরকারি জীবন বীমা — মেয়াদ শেষে বা দুর্ঘটনায় নির্দিষ্ট টাকা পাওয়া যায়।
- ছোট আয়ের মানুষের জন্যই মূলত এই বীমা।
- প্রিমিয়াম ডাকঘরের কাউন্টারেই জমা দেওয়া যায়।
- বয়স ও মেয়াদ অনুযায়ী কত টাকা জমা দিতে হবে, অফিস হিসাব করে দেবে।
পোস্ট ই-সেন্টার
Post e-Centre
ডাকঘরের ভেতরের ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র — ইন্টারনেট, কম্পোজ, প্রিন্ট আর স্ক্যান।
- অনলাইন ফরম পূরণ, ছবি তোলা আর কাগজ স্ক্যান করার কাজ এখানেই হয়।
- কম্পিউটার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও কোথাও কোথাও আছে।
- সব ডাকঘরে থাকে না — যাওয়ার আগে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
ডাক টিকিট, খাম ও রেভিনিউ স্ট্যাম্প
Stamps & Stationery
ডাক টিকিট, সরকারি খাম, পোস্টকার্ড আর রেভিনিউ স্ট্যাম্প কাউন্টারে পাওয়া যায়।
- সরকারি কাজের কাগজে রেভিনিউ স্ট্যাম্প লাগে — এখান থেকেই নিন।
- সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ও স্মারক ডাক টিকিটও থাকে।
- একসাথে অনেক লাগলে আগে জানিয়ে রাখলে সুবিধা হয়।
পোস্ট বক্স ও পোস্ট ব্যাগ
Post Box / Bag
নিজের বা প্রতিষ্ঠানের নামে ডাকঘরে বাক্স ভাড়া নিয়ে চিঠি জমা রাখার ব্যবস্থা।
- অফিসে লোক না থাকলেও চিঠি হারায় না — ডাকঘরেই জমা থাকে।
- বছর ধরে ভাড়া নিতে হয়, চাবি গ্রাহকের কাছে থাকে।
- ঠিকানায় বাক্সের নম্বর লিখলেই চিঠি সোজা ওখানে যায়।
ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস
Track & Trace
রেজিস্ট্রি, জিইপি বা ই.এম.এস. আইটেমের বারকোড নম্বর দিয়ে খাম কোথায় আছে দেখা।
- রসিদের বারকোড নম্বরটি হাতে রাখুন — ওটাই খোঁজার চাবি।
- এই পোর্টালের ট্র্যাকিং পাতায় বারকোডে চাপ দিলে ডাক বিভাগের রসিদ পাতাটিই খোলে।
- কোথায় আটকে আছে বুঝতে না পারলে অফিসে ফোন করুন।
ফি, ওজনের সীমা আর সময় সরকার-নির্ধারিত হারে চলে এবং মাঝেমধ্যে বদলায়। তাই এখানে টাকার অঙ্ক লেখা নেই — কাউন্টারে বা ফোনে সর্বশেষ হারটি জেনে নিন।
কীভাবে সেবা নেবেন
এই সেবাগুলোর জন্য অনলাইনে আবেদন লাগে না — কাউন্টারেই কাজ হয়।
কাগজ গুছিয়ে নিন
জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, প্রাপকের পুরো ঠিকানা আর নিজের চালু মোবাইল নাম্বার।
কাউন্টারে বলুন
কোন সেবাটি লাগবে বললেই কর্মী ফরম দেবেন, ফি নিয়ে রসিদ দিয়ে দেবেন।
রসিদ যত্নে রাখুন
ট্র্যাকিং নম্বর, টাকার হিসাব বা কোনো দাবি — সবেতেই ওই কাগজটিই লাগে।
কাউন্টারে যাওয়ার আগে
এই চারটে পাতা কাউন্টারের ভোগান্তি অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
শেরপুর প্রধান ডাকঘর
শেরপুর প্রধান ডাকঘর - ২১০০, শেরপুর, বাংলাদেশ
রবি – বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা – বিকেল ৫টা
০১৬১১২৭৯০৪৫চিঠি বা দরখাস্ত লিখিয়ে নিতে চান?
উপরের সেবাগুলো ডাক বিভাগের। এই পোর্টালের নিজের কাজ আলাদা — দাপ্তরিক আবেদন, ব্যবসায়িক প্রস্তাব আর কভার লেটার লিখে দেওয়া, আর অর্ডার কোড দিয়ে সেই কাজের অবস্থা দেখানো।